আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ কিংবা বারবার কারাভোগ করেও অপরাধের দুনিয়া থেকে দূরে রাখা যায়নি চাঁদপুরের দুই মাদক কারবারিকে। শেষ পর্যন্ত তাদের অন্ধকার পথ থেকে ফেরাতে সম্পূর্ণ এক নতুন ও মনস্তাত্ত্বিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে কচুয়া থানা পুলিশ। জেলে আটকে না রেখে তাদের পাঠানো হয়েছিল তিন দিনের তাবলিগ জামাতে। তাবলিগ থেকে ফিরে জীবনের ভুল বুঝতে পেরে পুরোপুরি অপরাধমুক্ত স্বাভাবিক জীবনে ফেরার শপথ নিয়েছেন ওই দুই ব্যক্তি।
জানা গেছে, কচুয়া উপজেলার আকানিয়া-নাছিরপুর এলাকার বাসিন্দা জালাল ও হেলাল বহু দিন ধরে অবৈধ মাদকের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে তারা হাজতবাসও করেছেন। তবে জামিনে ছাড়া পেয়েই তারা আবার পুরোনো ব্যবসায় ফিরে যেতেন।
পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধানের লক্ষে কেবল আইনি ব্যবস্থার ওপর ভরসা না রেখে তাদের মানসিক ও নৈতিক পরিবর্তনের কথা ভাবেন কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় তাদের থানায় ডেকে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলতে তিন দিনের তাবলিগ জামাতে অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়।
নির্ধারিত তিন দিনের সফর শেষে মঙ্গলবার দুপুরে জোহর নামাজ আদায় করে জালাল ও হেলাল সরাসরি থানায় হাজির হন এবং ওসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা ভবিষ্যতে কখনো মাদক কেনাবেচা বা সেবনের ধারেকাছেও না যাওয়ার জোর প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় এবং প্রতি মাসে অন্তত তিন দিন তাবলিগ জামাতে সময় কাটানোর ঘোষণা দিয়ে সৎ পথে চলার অঙ্গীকার করেন।
এ বিষয়ে কচুয়া থানার ওসি মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম বলেন, কেবল মামলা ও গ্রেপ্তার করে সমাজ থেকে মাদক সমূলে উৎপাটন করা কঠিন। এর জন্য অপরাধীদের মানসিকতার গভীর পরিবর্তন প্রয়োজন। আমরা চেয়েছি তারা অপরাধের অন্ধকার জগৎ ছেড়ে সমাজের একজন সচেতন ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকুক। পুলিশের এই ব্যতিক্রমী ও মানবিক উদ্যোগটি স্থানীয় সচেতন মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।